Spread the love

ক্যামেরার শোরুমে প্রতিনিয়তই ভিড় দেখা যায়। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের কল্যানে, অনেকেই চায় তাদের প্রিয় মুহুর্তগুলো ফটোগ্রাফি’ র মাধ্যম

অন্যদের সাথে শেয়ার করতে। ভালো ফটোগ্রাফি মানেই তো বেশি বেশি লাইক, কমেন্ট আর শেয়ার।

এছাড়া হাতে দামী ফোন’তো থাকছেই। বেশি মেগাপিক্সেল না হলে যেনো এটা কোনো স্মার্টফোনের কাতারেই পরে না।তাই

গ্রাহকদের চাহিদার কথা চিন্তা করে, স্মার্টফোন কোম্পানিগুলোও তাদের বিভিন্ন মডেলের স্মার্টফোনে একের পর এক অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী ক্যামেরা যুক্ত করে যাচ্ছে।

কোনো কোনো স্মার্টফোনে এক সাথে একের অধিক এমনকি ৪-৫ টা ক্যামেরা পর্যন্ত দেখা যায়।

সকলেই বেশি মেগাপিক্সেলের ফোন কিনতে আগ্রহী। এর কারণ ভালো ছবি তোলা। কিন্তু ভালো ছবি তুলতে গেলেতো

ছবি তোলার কিছু নিয়ম কানুনও জানা চাই। আজকে তাই আমরা আলোচনা করবো নতুনদের জন্য বেসিক ফটোগ্রাফি টিপস নিয়ে-

১. ক্যামেরা-

ক্যামেরা

 

অনেকেই মনে করেন ফটোগ্রাফি করতে হলে আমাকে দামী ক্যামেরা কিনতেই হবে, যার কোনো বিকল্প নেই।

তাদের ধারণা, কমদামি ক্যামেরায় ভালো ছবি হয় না। হা, দামী ক্যামেরাতে আপনি ভালো ছবি পাবেন,

কিন্তু আপনি যদি ফটোগ্রাফিই না বুঝেন, তাহলে দামী ক্যামেরা হাতে থেকেও লাভ নেই।

তাই আপনাকে আগে ফটোগ্রাফি ভালোভাবে বুঝতে হবে। ফটোগ্রাফির রুলস বুঝতে পারলে আপনি কম দামী ক্যামেরাতেও তুলে আনতে পারবেন

অসাধারণ ফটোগ্রাফ। শুরুটা কমদামী ক্যামেরা দিয়ে করলেই ভালো। এতে করে আপনি টাকা বাঁচাতে পারবেন এবং আপনার ভালো প্র্যাকটিস হবে।

তবে আপনার বাজেট বেশি থাকলে আপনি দামী ক্যামেরা দিয়েও স্টার্ট করতে পারেন।

 

২. ক্যামেরাময় জীবন-

যাদুকাটা নদী।

 

যেখানেই যাবেন সাথে রাখবেন আপনার প্রিয় ক্যামেরাটি। ক্যামেরা হতে হবে আপনার নিত্য সঙ্গী। যা দেখবেন, ক্যামেরার ফ্রেমের মতো করে ভাববেন।

প্রচুর ছবি তোলার চেস্টা করবেন। একই ছবি ভিন্ন ভিন্ন মুডে তুলবেন। সেটিংস চ্যাঞ্জ করে নিবেন।

আলো বাড়িয়ে কমিয়ে একই ছবি ভিন্ন ভিন্ন ভাবে তুলবেন। বাড়িতে এসে বেস্ট ছবিটা সর্ট আউট করবেন।

কি কি ভুল করেছেন সেগুলো খেয়াল করবেন। ভুল থেকে শিখবেন।

 

৩. ক্যামেরা সেটিংস-

camera

 

ক্যামেরার সেটিংস সম্বন্ধে ভালোভাবে জেনে নিন। প্রয়োজনে ক্যামেরার ইউজার ম্যানুয়েল দেখে নিন। এছাড়া আপনি যে মডেলের ক্যামেরা নিবেন, সেই মডেলের

নাম্বার দিয়ে ইউটিউবে সার্চ দিলে পেয়ে যাবেন এর অনেক টিউটোরিয়াল। অথবা আপনি ক্যামেরার ওয়েবসাইটে গিয়েও সেখানে সেটিংস সম্বন্ধে জানতে পারবেন।

 

৪. শাটার স্পিড, আইএসও, এপার্চার-

Photography Basic

Basic

শাটার স্পিড, আইএসও এবং এপার্চার সম্বন্ধে ভালো করে জেনে নিন। শাটার স্পিড দিনের আলোতে কি রকম ইউজ করবেন,

রাতে কি রকম ইউজ করবেন। এপার্চার এর ভ্যালু সম্বন্ধে জেনে নিন। সেই সাথে আইএসও কখন কি হওয়া উচিৎ।

এইসবই পাবেন ইউটিউবে একটু সার্চ করলেই। অথবা আমার ব্লগে দেখতে পারেন, সেখানেও শাটার স্পিড, আইএসও এবং

এপার্চার সম্বন্ধে বিষদ আকারে বলা আছে। এছাড়া আপনি ডিজিটাল ফটোগ্রাফি স্কুল ফলো করতে পারেন।

৫. ট্রাইপড-

tripod flash

কম আলোতে ট্রাইপডের ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বেশি আলোতে সাধারণত ট্রাইপড লাগে না। এক্ষেত্রে আমরা শাটার স্পিড বাড়ীয়েও ছবি তুলতে পারি।

সেক্ষেত্রে হাত কাপলেও সমস্যা নেই। আপনি যেহেতু নতুন, প্রথম দিকে আপনার হাত কাঁপতে পারে। ছবি তোলার সময় আপনাকে স্থির হতে হবে।

অন্যথায় লো লাইটে নিখুঁত ছবি আসবে না। ছবি ঝাপসা হয়ে যাবে। তাই ট্রাইপড ব্যবহার করতে শিখুন। আপনার বাজেটের মধ্যে নিয়ে ফেলুন একটি ট্রাইপড।

যা হবে কম আলোতে ছবি তোলার জন্য আপনার নিত্য সঙ্গী।

 

৬. ছবির নিশ সিলেক্ট করুন-

Print Photograph Bird

Shalik Pakhi

সবচেয়ে ভালো হয় কোনো একটি নিশ নিয়ে প্রথমে শুরু করলে। আপনার পছন্দের বিষয়ের উপর ছবি তুলুন। যেমন- ট্রাভেল, বার্ড, শিশু, ল্যান্ডস্কেপ, স্ট্রিট ইত্যাদি।

যেকোনো একটি নিশের উপর কাজ করলে আপনি আপনার দক্ষতা যাচাই করতে পারবেন। আপনি যদি এক সাথে সব ধরণের ছবি তুলেন তাহলে নিজেকে যাচাই করতে সময় লেগে যাবে।

তাই ছবির নিশ সিলেক্ট করে সেভাবে ছবি তোলার চেস্টা করুন।

৭. পেশা হিসেবে ফটোগ্রাফি-

ফটোগ্রাফি

আপনার হাতে কাজ নেই? বেকার ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন? হাতে কিছু টাকা আছে তাই ভাবছেন একটি ক্যামেরা কিনে কাজ শুরু করে দিবেন?

এমনটা না করাই ভালো। হয়তো কেউ কেউ এক্ষেত্রে সফলতা পেয়েছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরবর্তীতে হতাশ হয়ে ক্যামেরা কম টাকায় সেল করতেও দেখা গেছে।

পেশা হিসাবে আপনি শুরুতেই ফটোগ্রাফিকে বেছে নিবেন না। এটা আপনি আপনার অন্য কাজের পাশাপাশি করতে পারেন। সময় নিন, অভিজ্ঞতা নিতে থাকুন।

আপনার যখন মনে হবে এবার পেশা হিসাবে নেওয়া যায়, তখন ফটোগ্রাফিকে আপনার পেশা হিসাবে নিতে পারেন।

৮. লেগে থাকা-

আপনি যে সেক্টরেই কাজ করুন না কেনো সে সেক্টরে সময় দিতে হবে। ফটোগ্রাফির খেত্রেও একই কথা। এখানে আপনাকে প্রচুর সময় দিতে হবে।

বছরের পর বছর এখানে লেগে থাকার কোনো বিকল্প নেই। আপনি অল্প সময়ে হয়তো ভালো কিছু ছবি তুলতে পারবেন কিন্তু

একজন ভালো মানের ফটোগ্রাফার হতে গেলে, আপনাকে বছরের পর বছর এই সেক্টরে থাকতে হবে। অনেককেই দেখা যায় ঝোকের বশে ক্যামেরা কিনে, কয়েকদিন ছবি তুলে তারপর

সেটা বিক্রয়ের জণ্য বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেয়। ঝোকে আপনি কিছুদিন ছবি তুলতে পারবেন, কিন্তু ফটোগ্রাফার হতে গেলে আপনার অভিজ্ঞতা দরকার।

অভিজ্ঞতা একদিনে আসে না। এজন্য আপনাকে ফটোগ্রাফিতে অনেক সময় দিতে হবে।

৯. নিয়মিত ছবি তুলুন-

মেঘনা নদী

খুব বেশি গ্যাপ দিবেন না। তাহলে যা শিখবেন, ভুলে যাওয়ার চান্স থাকবে। সময় করে নিয়মিত ছবি তুলতে বের হয়ে যাবেন। ভালো হয় যদি সাথে একজন বা কয়েকজন পার্টনার পেয়ে যান।

এতে করে সবাই এক সাথে ফটো আউটিং-এ বের হতে পারেন। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিয়মিত ছবি তোলার জন্য সময় বের করে বের হয়ে যান।

সেন্ট মার্টিন

১০. ক্যামেরার যত্ন নিন-

backpack

আমাদের দেশের ওয়েদার ক্যামেরার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং। বর্ষাকালে ক্যামেরার লেন্সে ফাঙ্গাস জমে যায়। আপনার ছবি তখন নস্ট হওয়ার রিস্ক থেকে যাবে। ফাঙ্গাস থেকে

বাচতে সিলিকা জেল ব্যবহার করুন। এছাড়া ক্যামেরা রাখার জন্য এয়ার টাইট বক্স ব্যবহার করুন। এয়ার টাইট বক্সের ভেতর সিলিকা জেল রেখে ক্যামেরা ভালোভাবে কাভার

করুন। সেখানে যেনো কোনো বাতাস ঢুকতে না পারে। বাইরে বের হলে ভালো মানের ট্রাভেল ব্যাগ ব্যবহার করুন। পানি এবং স্যাতস্যাতে জায়গা থেকে ক্যামেরা দূরে রাখবেন।

লেন্সের জন্য লেন্স ক্যাপ, ফিল্টার ইউজ করুন। ক্যামেরা গলায় ঝুলানো বা হাতে রাখার জন্য ভালো মানের স্ট্রিপ ব্যবহার করুন।

About The Author

I am something. ;)

Leave a Reply

Your email address will not be published.